Site Logo
English
ইনসাইট স্টোরি

সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কক্সবাজার এসেছিল পরিবারটি…

অ্যালবার্টের মৃত্যুর পর এখন শুধু শোক নয়, প্রশ্নও উঠেছে, কীভাবে তৈরি হয়েছিল নৌযানটি? সেটি কি বঙ্গোপসাগরের এমন উত্তাল পানিতে চলাচলের উপযোগী ছিল? দুর্ঘটনার সময় আসলে কী ঘটেছিল? আর উদ্ধার তৎপরতায় কোনো গাফিলতি হয়েছিল কি না?

8 min read
সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কক্সবাজার এসেছিল পরিবারটি…

। বে ইনসাইট রিপোর্ট ।

কক্সবাজারে এসে একটি কাঠের ক্যাটামারান বানিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের একটি পরিবার। পরিকল্পনা ছিল সেই নৌযানে করে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে কখনো নিউজিল্যান্ডে ফেরা, কখনো পৃথিবীর অন্য প্রান্তে যাওয়া।

স্বপ্ন পূরণে কেটে যায় দুই বছরেরও বেশি সময়। বাংলাদেশে আসা-যাওয়া, স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে কাজ, কাঠ সংগ্রহ আর নৌযান নির্মাণ, সব মিলিয়ে তৈরি হয় ৫৮ ফুট দীর্ঘ ‘আইল্যান্ড গার্ল’।

কিন্তু সেই নৌযানেই শেষ পর্যন্ত সমুদ্রযাত্রা হয়ে উঠল এক পরিবারের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।

২৫ আগস্ট কক্সবাজারের নাজিরারটেক পয়েন্টের কাছে মহেশখালী চ্যানেলের মোহনায় বড় ঢেউ ও প্রবল স্রোতের মধ্যে ভেঙে পড়ে নৌযানটি।

পরিবারের তিন সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও সাগরে নিখোঁজ হয় ১৬ বছরের অ্যালবার্ট পাডনি।

পরে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাছে সমুদ্র থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অ্যালবার্টের মৃত্যুর পর এখন শুধু শোক নয়, প্রশ্নও উঠেছে, কীভাবে তৈরি হয়েছিল নৌযানটি? সেটি কি বঙ্গোপসাগরের এমন উত্তাল পানিতে চলাচলের উপযোগী ছিল? দুর্ঘটনার সময় আসলে কী ঘটেছিল? আর উদ্ধার তৎপরতায় কোনো গাফিলতি হয়েছিল কি না?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে অ্যালবার্টের বাবা ৭৪ বছর বয়সী জন এডওয়ার্ড পাডনির সঙ্গে কথা বলেছে বে ইনসাইট।


‘হঠাৎ বিশাল একটা ঢেউ এসে পড়ল’

দুর্ঘটনার সময় নৌযানে ছিলেন জন, তাঁর স্ত্রী বেলা এবং দুই ছেলে রালফ ও অ্যালবার্ট।

জন জানান, নৌযানের পেছনের অংশে স্টিয়ারিংয়ের কাছে তিনি ও রালফ ছিলেন। বেলা ও অ্যালবার্ট ছিলেন মাঝের অংশে।

‘আইল্যান্ড গার্ল’ ছিল দুইটি আলাদা কাঠের হালের ওপর তৈরি একটি ক্যাটামারান। দুটি হালকে কয়েকটি বড় কাঠের গুঁড়ি দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। সেই কাঠের ওপর তৈরি করা হয়েছিল একটি বড় প্ল্যাটফর্ম।

সামনের অংশ ছিল খোলা। মাঝখানে ছিল থাকার জায়গা। পেছনে ছিল নৌযান চালানোর ব্যবস্থা।

জনের ভাষ্য অনুযায়ী, চ্যানেল থেকে বের হওয়ার সময় রালফ প্রথম একটি সংযোগকারী কাঠে ফাটল দেখতে পান।

খবরটি জানার পর জন নৌযানটি ঘুরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

কিন্তু তখন পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

একটির পর একটি সংযোগকারী কাঠ ভাঙতে শুরু করে। মাঝের অংশ ধসে পড়ে।

‘হঠাৎ বিশাল একটা ঢেউ এসে পড়ল,’ জন বলেন।

এরপর নৌযানটি দুই ভাগ হয়ে যায়।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চারজনই পানিতে পড়ে যান। নৌযানের ভাঙা অংশগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঢেউয়ের মধ্যে পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খেতে থাকে।

জন জানান, তিনি সাঁতার জানেন না। ধ্বংসাবশেষের একটি অংশ আঁকড়ে ধরে থাকার চেষ্টা করছিলেন।

রালফ পরে তাঁকে ভাঙা নৌযানের একটি অংশের ওপর তুলে আনেন।

‘আমার কোনো শক্তি ছিল না,’ বলেন জন।

পরে তিনি রালফকে জরুরি রাবারের লাইফবোট নিয়ে তাঁর মা ও অ্যালবার্টকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে বলেন।

বেলা শেষ পর্যন্ত ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে বের হয়ে লাইফবোটে উঠতে সক্ষম হন।

কিন্তু অ্যালবার্টকে আর বের করে আনা সম্ভব হয়নি।

জনের ভাষ্য, তাঁর স্ত্রী পরে তাঁকে জানান, নৌযানের একটি ছাউনির নিচে কিছু সময় বাতাস আটকে ছিল এবং তিনি অ্যালবার্টকে সেখানে ধরে রেখেছিলেন।

তিনি ছেলের মাথা পানির ওপরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

অ্যালবার্টকে প্রথমে শ্বাস নিতে দেখা গেলেও পরে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান জন।


উদ্ধার নিয়ে বাবার অভিযোগ

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অ্যালবার্ট নিখোঁজ ছিলেন।

পরে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়।

তবে উদ্ধার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জন।

তিনি অভিযোগ করেন, ধ্বংসাবশেষের ওপর থাকা আরেক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী ও অ্যালবার্টের চিৎকার শুনতে পেয়েছিলেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে যাননি।

জনের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি বরং ধ্বংসাবশেষ থেকে জিনিসপত্র সংগ্রহ করছিলেন এবং পরে নিজেকে অ্যালবার্টকে উদ্ধারকারী হিসেবে উপস্থাপন করেন।

এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ওই ব্যক্তির বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন জেলে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, দুর্ঘটনার সময় তাঁরা পরিবারের সদস্যদের ভাষা বুঝতে পারছিলেন না। ফলে উদ্ধারকাজে যোগাযোগের সমস্যাও তৈরি হয়েছিল।

জনের প্রশ্ন, অ্যালবার্টকে যদি আরও আগে পানি থেকে বের করে আনা যেত, তাহলে তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হতো কি না।

তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।


কক্সবাজারে কেন তৈরি হয়েছিল ‘আইল্যান্ড গার্ল’?

বাংলাদেশে পরিবারটির আসা-যাওয়া শুরু হয় ২০২৪ সালে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এরপর তারা কয়েক দফায় বাংলাদেশে আসে এবং দেশ ছাড়ে। বিভিন্ন সময়ে তারা আগমন ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করার ঘটনায় বিমানবন্দরে ওভারস্টে ফি দেওয়ার তথ্যও দিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের হিসাবে, পরিবারটি প্রায় ১০ থেকে ১২ বার বাংলাদেশে যাতায়াত করেছে।

জনও প্রায় একই তথ্য দিয়েছেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম বাংলাদেশে আসেন তাঁরা। এরপর কয়েকবার বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করেছেন। দুবার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছিল এবং একবার ওভারস্টে ফি দিয়ে দেশ ছাড়েন।

তাঁরা সাধারণত চট্টগ্রাম থেকে ভিসার মেয়াদ বাড়াতেন।

পরিবারটির সর্বশেষ ভিসার মেয়াদ ২০২৬ সালের ২৪ মে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু বাংলাদেশে তাঁদের থাকার মূল উদ্দেশ্য ছিল আরও আলাদা।

তাঁরা এখানে একটি নৌযান তৈরি করতে চেয়েছিলেন।


দেড় কোটি টাকার নৌযান

জনের পরিকল্পনা ছিল পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে নৌযানটির নির্মাণ শেষ করা।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সময় লাগে দেড় বছরেরও বেশি।

কক্সবাজারের এসএম পাড়ার একটি ডকইয়ার্ডে স্থানীয় কারিগরদের সহায়তায় তৈরি হয় ‘আইল্যান্ড গার্ল’।

জন নিজেকে কাঠের বাড়ি ও নৌযান নির্মাণে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

বাংলাদেশে নৌযানটি তৈরির একটি কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, এখানে প্রয়োজনীয় কাঠ সহজে পাওয়া যায়।

নৌযানটি মূলত গর্জন কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়।

জনের দাবি, গর্জন কাঠ সংগ্রহের ক্ষেত্রে তিনি প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন। দুটি হালকে যুক্ত করার জন্য ছয়টি উন্নতমানের গর্জন কাঠের গুঁড়ি কিনতে তিনি বেশি অর্থও ব্যয় করেছিলেন বলে জানান।

তাঁর হিসাবে, নৌযানটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।

দুটি হালের প্রতিটিতে ছিল তিনটি করে কক্ষ, মোট ছয়টি কক্ষ।

উপরের প্ল্যাটফর্মের ওপর ছিল ত্রিপলের ছাউনি। সেখানেই গত ছয় মাস ধরে পরিবারটি বসবাস করছিল।

নৌযানটি নোঙর করা থাকত বাকখালী নদীর বিআইডব্লিউটিএ জেটির কাছে।

দুটি ইঞ্জিনে চলত নৌযানটি। প্রতিটির ক্ষমতা ছিল প্রায় ১২০ হর্সপাওয়ার।


নৌযানটি কি আদৌ নিরাপদ ছিল?

অ্যালবার্টের মৃত্যুর পর স্থানীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি উঠেছে, সেটি হলো, এই নৌযান কি বঙ্গোপসাগরের উত্তাল পানিতে চলাচলের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ ছিল?

দুটি হালকে কাঠের গুঁড়ি দিয়ে যুক্ত করে তার ওপর এত বড় একটি বসবাসের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছিল।

স্থানীয় অনেকের প্রশ্ন, প্রবল ঢেউয়ের মধ্যে এই কাঠামো কতটা টেকসই?

আর কক্সবাজারে স্থানীয় কারিগরদের সহায়তায় তৈরি এমন একটি কাঠের ক্যাটামারান কি বঙ্গোপসাগরের মতো সমুদ্রপথে দীর্ঘ যাত্রার জন্য উপযোগী ছিল?

জন অবশ্য এসব প্রশ্নের সঙ্গে একমত নন।

তাঁর দাবি, ক্যাটামারান নির্মাণে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের নৌযানে মানুষ বসবাস করে এবং সমুদ্রযাত্রাও করে।

তাঁর মতে, নৌযানের নকশাই সমস্যার কারণ নয়।

বরং যে কাঠ দিয়ে দুটি হাল যুক্ত করা হয়েছিল, সেটির মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

জনের অভিযোগ, তিনি উন্নতমানের গর্জন কাঠের জন্য বেশি অর্থ দিয়েছিলেন। কিন্তু নৌযান তৈরির পর তিনি বুঝতে পারেন, কিছু কাঠ তাঁর প্রত্যাশিত মানের ছিল না।

দুর্ঘটনার সময় মাঝের অংশের সংযোগকারী গর্জন কাঠগুলো ভেঙে যাওয়াকেই তিনি নৌযানটি ভেঙে পড়ার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন।

তবে এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।

নৌযানটি কেন ভেঙে পড়েছিল, সেটি নিশ্চিতভাবে জানতে হলে কাঠামোগত পরীক্ষা, ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই এবং দুর্ঘটনার কারিগরি তদন্ত প্রয়োজন।


এর আগেও চট্টগ্রামের পথে গিয়েছিল পরিবারটি

২৫ আগস্টের যাত্রাই ছিল না ‘আইল্যান্ড গার্ল’-এর প্রথম সমুদ্রযাত্রা।

নৌযানটি নির্মাণের পর পরিবারটি এর আগে একবার চট্টগ্রাম গিয়েছিল।

ফেরার পথে তারা সোনাদিয়া দ্বীপে অবস্থান করেছিল। সেখানে ৮ এপ্রিল ২০২৬ একদল দুর্বৃত্ত তাদের ওপর হামলা করে বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়েছিল, সোনাদিয়ায় নৌযান নিয়ে অবস্থান করা পর্যটকদের উদ্ধার করা হয় এবং লুট হওয়া বেশির ভাগ মালামালও উদ্ধার করা হয়েছিল।

জন জানান, এপ্রিলের সেই যাত্রায় তাঁদের পরিকল্পনা ছিল সমুদ্রপথে থাইল্যান্ড যাওয়ার।

কিন্তু বাংলাদেশে ডিজেলের সংকটের কারণে তাঁরা যেতে পারেননি।

ডিজেল সংগ্রহের জন্য তিনি কক্সবাজারে ফিরে আসেন এবং পরে সোনাদিয়ায় অবস্থানকালে হামলার শিকার হন বলে জানান।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবর বা নভেম্বরের দিকে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

সেই পরিকল্পনা এখন আর নেই।


ভ্রমণই ছিল তাঁদের জীবন

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জন প্রায় ১৮ বছর ধরে নিউজিল্যান্ডের বাইরে বসবাস করছেন।

নিউজিল্যান্ডে থাকার আগে তিনি প্রায় ১০ বছর কোস্ট গার্ডে কাজ করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে জর্জিয়া ও থাইল্যান্ডেও বসবাস করেছেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জন বলেন, জর্জিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে তিনি সরকারি জমি ইজারা নিয়ে কাঠের বাড়ি তৈরি করে বিক্রি করেছেন।

একতলা থেকে তিনতলা, বিভিন্ন ধরনের কাঠের বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি।

তাঁর কাছে কাঠের নৌযান নির্মাণ কিংবা একটি নৌযানে বসবাস করা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়।

কিন্তু বাংলাদেশের অনেক মানুষের কাছে সেটি ছিল একেবারেই অন্যরকম।

কক্সবাজারে এসে একটি বিদেশি পরিবার নিজেরাই একটি নৌযান বানাবে, সেই নৌযানকে ঘর হিসেবে ব্যবহার করবে এবং একদিন সেটি নিয়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে পাড়ি দেবে, এমন জীবনযাপন স্থানীয়দের কাছে ছিল ব্যতিক্রমী।

জনের কাছে সেটিই ছিল স্বাভাবিক জীবন।


এখন আরেক লড়াই

দুর্ঘটনার পর পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর পরিবারটির জন্য হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তাদের খাবার দেওয়া হচ্ছে, নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং পুলিশি নিরাপত্তাও দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু তাঁদের হারিয়েছে আরও অনেক কিছু।

বেলা জানিয়েছেন, নৌযানে থাকা টাকা, ব্যাংকসংক্রান্ত কাগজপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে গেছে।

নৌযানের ধ্বংসাবশেষ থেকেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কিছু উদ্ধার হয়নি বলে পরিবারটি জানিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ‘আইল্যান্ড গার্ল’-এর ভেঙে যাওয়া দুই অংশ বর্তমানে নুনিয়ারছড়া কোস্ট গার্ড স্টেশনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। পরিবারের হারানো জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে।

জন এখন সেই ভাঙা নৌযানের অবশিষ্ট দুই হাল বিক্রি করে কিছু অর্থ সংগ্রহের কথা ভাবছেন।

পরিবারটির সঙ্গে থাকা অর্থ ও সম্পদের বড় অংশ সমুদ্রে হারিয়ে গেছে।

নতুন পাসপোর্টের জন্য তিনি শ্রীলঙ্কায় থাকা নিউজিল্যান্ড দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কারণ বাংলাদেশে নিউজিল্যান্ডের কোনো দূতাবাস নেই।

তবে এখন তাঁর সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা অন্য কিছু।

তিনি বাংলাদেশেই তাঁর ছেলে অ্যালবার্টের শেষকৃত্য করতে চান।


যে স্বপ্নের শেষ হলো সমুদ্রে

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি পরিবার বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করেছে।

স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে কাজ করেছে। কাঠ সংগ্রহ করেছে।

নিজেদের হাতে একটি নৌযান তৈরি করেছে। তারপর সেই নৌযানকে ঘর বানিয়ে ছয় মাস ধরে বসবাস করেছে।

স্বপ্ন ছিল, একদিন সেই ঘরই হবে তাঁদের পৃথিবী ভ্রমণের বাহন।

নিউজিল্যান্ডে ফেরা কিংবা পৃথিবীর অন্য কোনো প্রান্তে যাওয়া।

কিন্তু ২৫ আগস্ট নাজিরারটেকের কাছে সমুদ্র সেই স্বপ্নের গতিপথ বদলে দেয়।

‘আইল্যান্ড গার্ল’ ভেঙে যায়। তিনজন বেঁচে ফেরেন। অ্যালবার্ট আর ফেরেনি।

কক্সবাজারে তারা এসেছিল পানির ওপর একটি ঘর বানিয়ে পৃথিবীর পথে বেরিয়ে পড়তে।

শেষ পর্যন্ত সেই পানিই কেড়ে নিল তাদের সন্তানকে।

Share this article

Leave a Comment

Comments (0)

No comments yet. Be the first to share your thoughts!