Site Logo
English
শরণার্থী

রোহিঙ্গাদের বাড়ি আর কত দূর?

নয় বছর পরও প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত, বাড়ছে জনসংখ্যা, কমছে সহায়তা; বাংলাদেশের ক্যাম্পে আটকে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ

7 min read
রোহিঙ্গাদের বাড়ি আর কত দূর?

বে ইনসাইট । কক্সবাজার

“আমার ছেলে যখন বাংলাদেশে আসে, তখন তার বয়স পাঁচ বছর। এখন সে প্রায় চৌদ্দ। সে তার গ্রামের নাম জানে, কিন্তু কখনও নিজের গ্রাম দেখেনি।”

উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে বসে কথাগুলো বলছিলেন রোহিঙ্গা শরণার্থী আবদুস সালাম। কথার মাঝেই তিনি থেমে যান। চোখ চলে যায় দূরের পাহাড়ের দিকে।
তার মতো লাখো রোহিঙ্গার জীবন এখন দুই দেশের মাঝখানে আটকে থাকা এক দীর্ঘ অপেক্ষার নাম।

একদিকে মিয়ানমার যেখানে তাদের জন্ম, শিকড়, জমি-ঘর, স্মৃতি। অন্যদিকে বাংলাদেশ, যে দেশ তাদের প্রাণ বাঁচিয়েছে, কিন্তু স্থায়ী ঠিকানা দিতে পারেনি।

বিশ্ব যখন ২০ জুন আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবস পালন করছে, তখন কক্সবাজারের ৩৩টি শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের কাছে দিনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি হারিয়ে যাওয়া বাড়ি, হারিয়ে যাওয়া পরিচয় এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের স্মরণ দিবস।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযানের পর কয়েক মাসের মধ্যে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগেও কয়েক দফায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। ফলে আজ প্রায় নয় বছর পর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকটে পরিণত হয়েছে।

সংখ্যা বাড়ছে, সংকটও বড় হচ্ছে

বাংলাদেশ সরকারের হিসাবে বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান বলছেন, বাস্তবতা হচ্ছে সংকটটি দিন দিন আরও বড় হচ্ছে।

“২০১৭ সালে সবচেয়ে বড় ইনফ্লাক্সের সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ এসেছিল। এখন নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ লাখের উপরে। গত দুই-আড়াই বছরে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।”

তিনি বলেন, “প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার শিশু ক্যাম্পে জন্ম নিচ্ছে। অর্থাৎ জনসংখ্যা স্থির নেই, ক্রমাগত বাড়ছে।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাহমান নাসির উদ্দিন অবশ্য মনে করেন, প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি।

“২০১৭ সালে আমরা ১১ লাখাধিক রোহিঙ্গার কথা বলেছিলাম। এরপর গত নয় বছরে প্রতিবছর গড়ে ৩০ হাজার করে জনসংখ্যা বেড়েছে। জন্মহার থেকে মৃত্যুহার বাদ দিলেও দুই থেকে আড়াই লাখ নতুন মানুষ যুক্ত হয়েছে। তার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে দেড় থেকে দুই লাখ নতুন অনুপ্রবেশকারী যোগ করলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৫ লাখেরও বেশি।”

তার মতে, “বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা আবাসভূমি।”

‘আমাদেরও দেশ ছিল’

রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকমের সাথে কথা বলেছেন ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’-এর সদস্য ডা. জুবায়ের।

তার কণ্ঠে ছিল বেদনা, ক্ষোভ ও প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা।

“২০ জুন পৃথিবীর সব শরণার্থীর জন্য একটি বিশেষ দিন। এই দিনে তারা স্মরণ করে কেন তারা শরণার্থী হয়েছে, কীভাবে তাদের দেশ হারিয়েছে, কারা তাদের দেশছাড়া করেছে।”

তিনি বলেন, “আমরাও এই দিনে আমাদের ফেলে আসা বাড়ি, জমি, কবরস্থান, আত্মীয়-স্বজন, মা-বাবা, ভাই-বোন, সন্তানদের স্মরণ করি। অনেকের পরিবার ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। অনেকেই আর বেঁচে নেই।”

ডা. জুবায়েরের মতে, বিশ্ব শরণার্থী দিবসের মূল বার্তা হওয়া উচিত নতুন করে যেন আর কোনো জনগোষ্ঠী শরণার্থী না হয়।

“আমরা বিশ্বকে বলতে চাই, আমরা কখনো শরণার্থী হতে চাইনি। পৃথিবীর কোনো মানুষই শরণার্থী হতে চায় না।”

পরিচয়ের সংকট

রোহিঙ্গা সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পরিচয়ের প্রশ্ন, এ কথা বারবার তুলে ধরেন ডা. জুবায়ের।

“আমরা বলি আমরা রোহিঙ্গা। কিন্তু রাখাইনের মগরা বলে আমরা বাঙালি। মিয়ানমার রাষ্ট্র আমাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না। আমাদের পরিচয় অস্বীকার করে।”

তার ভাষায়, “যে জনগোষ্ঠীর পরিচয় স্বীকৃত নয়, তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন কীভাবে সম্ভব?”

তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে, আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাখাইনে নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসা আরাকান আর্মির সময়ও রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা পায়নি।

“আজও মগ আর মিলিটারি নিজেদের মতো খেলা খেলছে। আমরা মাঝখানে পিষ্ট হচ্ছি।”

‘ক্যাম্প একটা কারাগার’

নয় বছরের শরণার্থী জীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডা. জুবায়ের বলেন, “ক্যাম্প একটা কারাগার।”

তিনি বলেন, “কারাগারের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে খারাপ। এখানে মানুষের স্বাধীনতা সীমিত। কাজের সুযোগ সীমিত। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।”

তার ভাষায়, “আমরা বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে থাকতে চাই না।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ব যদি রাখাইনে আমাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করে, সেটা শরণার্থী শিবির হলেও আমরা যেতে প্রস্তুত। অন্তত সেটা আমাদের ভূমি হবে।”

নয় বছরে একজনও ফেরেনি

রোহিঙ্গা সংকটের শুরুতে প্রত্যাবাসন নিয়ে আশাবাদ ছিল। ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তি হয়। ২০১৮ সালের শুরুতে হয় বাস্তবায়ন চুক্তি।

অধ্যাপক রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, “খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। নভেম্বরে চুক্তি, ডিসেম্বরে টাস্কফোর্স, জানুয়ারিতে ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট এগ্রিমেন্ট। তখন মনে হয়েছিল দুই বছরের মধ্যেই প্রত্যাবাসন শুরু হবে।”

কিন্তু তা হয়নি। ২০১৮ সালে প্রথম এবং ২০১৯ সালে দ্বিতীয় দফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।

“কারণ মিয়ানমার নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, জমি-সম্পত্তি বা ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা দিতে পারেনি,” বলেন তিনি।

“বাংলাদেশও জোর করে কাউকে ফেরত পাঠাতে পারেনি। রোহিঙ্গারা যেতে রাজি না হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির কারণে তাদের জোর করে পাঠাতে পারে না।”

‘প্রত্যাবাসন এখন স্ট্যান্ডস্টিল’

রাহমান নাসির উদ্দিন প্রত্যাবাসন পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেন ‘স্ট্যান্ডস্টিল’ হিসেবে।

“এটা সামনে যাচ্ছে না, পিছিয়েও যাচ্ছে না। এক ধরনের স্থবিরতা।”

তিনি বলেন, “কোভিড মহামারির পর পুরো প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে যায়। এরপর মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান, গৃহযুদ্ধ, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন—সব মিলিয়ে প্রত্যাবাসন কার্যত থেমে গেছে।”

তার মতে, “বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসনের বাস্তব রোডম্যাপ দৃশ্যমান নয়।”

‘আমাদের লক্ষ্য প্রত্যাবাসন’

আরআরআরসি মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য কখনোই রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে রাখা নয়। আমরা চাই তাদের ন্যূনতম সেবা নিশ্চিত করতে এবং সসম্মানে নিজ দেশে ফিরিয়ে দিতে।”

তিনি বলেন, “নয় বছর প্রায় শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত একজন ব্যক্তিকেও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।”

এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি রাখাইনের যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন।
“প্রত্যাবাসনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ প্রয়োজন। সেই পরিবেশ এখনও নেই।”

তিনি জানান, বাংলাদেশ ২০১৭-১৮ সালেই প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছিল।

“তারা প্রায় আড়াই লাখ মানুষের তথ্য যাচাইও করেছে। কিন্তু যাচাই করা আর প্রত্যাবাসন শুরু করা এক বিষয় নয়।”

নতুন বাস্তবতা: আরাকান আর্মি

রাখাইনের রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন আগের চেয়ে অনেক জটিল।

রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, “২০১৭ সালে রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ মূলত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে ছিল। এখন বাস্তবতা বদলে গেছে।”

তার মতে, “আজ যদি মিয়ানমার সরকারও প্রত্যাবাসনে সম্মত হয়, প্রশ্ন হচ্ছে—সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতা কি তাদের আছে?”

কারণ রাখাইনের বড় অংশ এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে।

“বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক রাখে। কিন্তু আরাকান আর্মি কোনো রাষ্ট্র নয়। ফলে বাস্তব নিয়ন্ত্রণ যাদের হাতে, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় যেতে পারে না।”

সহায়তা কমছে

মিজানুর রহমানের ভাষায়, “সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি এখন অর্থসংকট।”
তিনি বলেন, “প্রতি বছর জনসংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু অর্থায়ন কমছে। ফলে খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আশ্রয়—সবখানে চাপ বাড়ছে।”

তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীনসহ সহায়তাকারী দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

“তাদের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হতো না।”

হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজন্ম

ক্যাম্পে এখন এমন একটি প্রজন্ম বড় হচ্ছে, যারা কখনও মিয়ানমার দেখেনি।
২০১৭ সালে যে শিশুর বয়স ছিল ১০, সে এখন তরুণ। যার বয়স ছিল ১৫, সে এখন কর্মক্ষম যুবক। কিন্তু তাদের সামনে নেই কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশ তাদের নাগরিকত্ব দেবে না। মিয়ানমারও গ্রহণ করছে না। তারা এক ধরনের রাষ্ট্রহীন ভবিষ্যতের মধ্যে বড় হচ্ছে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি হতাশা সামাজিক অস্থিরতা, অপরাধ, মানবপাচার ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।”

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ কমছে

একসময় রোহিঙ্গা সংকট ছিল বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে।

কিন্তু এখন ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা যুদ্ধ, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনাসহ নানা সংকট আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে।

রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার তালিকা থেকে নিচে নেমে যাচ্ছে।”

তার মতে, বাংলাদেশেরও কূটনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।

“আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যথেষ্টভাবে বোঝাতে পারিনি যে এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়; এটি আন্তর্জাতিক দায়িত্বের বিষয়।”

বিকল্প পরিকল্পনা কি প্রয়োজন?

প্রত্যাবাসনই একমাত্র স্থায়ী সমাধান—এ বিষয়ে সবাই একমত। কিন্তু প্রত্যাবাসন না হলে কী হবে? এই প্রশ্ন তুলছেন রাহমান নাসির উদ্দিন।

“বাংলাদেশের একমাত্র নীতি হচ্ছে প্রত্যাবাসন। কিন্তু যদি আগামী পাঁচ বা দশ বছরেও তা সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প পরিকল্পনা কী?”

তিনি তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন, সীমিত কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নতুন ধরনের চুক্তির কথা বলেন।

“অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের কিছু দেশ মানবিক পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে পারে। একই সঙ্গে ক্যাম্পের মানুষদের কিছু উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করার বিষয়ও ভাবতে হবে।”

তার মতে, “১৫ লাখ মানুষকে বছরের পর বছর শুধু ত্রাণনির্ভর করে রাখা কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।”

বাড়ি আর কত দূর?

আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবসের আগের দিন সকালে কুতুপালং ক্যাম্পের সরু গলিতে কয়েকজন শিশু ঘুড়ি উড়াচ্ছিল।

তাদের একজনের হাতে ছিল কাগজের তৈরি একটি ছোট ঘুড়ি। ঘুড়িটি আকাশে উঠছিল, কিন্তু সুতো ছিল শক্ত করে বাঁধা।

রোহিঙ্গা যুবনেতা মুজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখো রোহিঙ্গার জীবনও যেন সেই ঘুড়ির মতো। স্বপ্ন আছে, স্মৃতি আছে, ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। কিন্তু সেই স্বপ্নের সুতো আটকে আছে যুদ্ধ, রাজনীতি, কূটনীতি, পরিচয়ের সংকট এবং আন্তর্জাতিক উদাসীনতার জটিল গিঁটে।

নয় বছর আগে যারা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়েছিল, তাদের অনেক শিশুই আজ তরুণ। কেউ কখনও রাখাইন দেখেনি, কেউ শুধু বাবা-মায়ের মুখে নিজের গ্রামের গল্প শুনেছে।

আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবসে তাই কক্সবাজারের পাহাড়ঘেরা ক্যাম্পগুলো থেকে আবারও ভেসে আসে একই প্রশ্ন- রোহিঙ্গাদের বাড়ি আর কত দূর?

Share this article

Leave a Comment

Comments (0)

No comments yet. Be the first to share your thoughts!