মাইনটি সীমান্তের কোন অংশে বিস্ফোরণ হয়েছে জানে না বিজিবি!
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যে চিংড়ি ঘেরের পথে বিস্ফোরণটি ঘটে সেটি মিয়ানমার সীমান্ত থেকে অন্তত এক কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে অবস্থিত

বে ইনসাইট | কক্সবাজার
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ নামে এক বাংলাদেশি যুবকের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তবে মাইনটি সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে নাকি মিয়ানমারের ভেতরে বিস্ফোরিত হয়েছে, এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার সকালে নাফ নদীর তীরবর্তী হোয়াইক্যং সীমান্তের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
আহত হানিফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফজলুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যে চিংড়ি ঘেরের পথে বিস্ফোরণটি ঘটে সেটি মিয়ানমার সীমান্ত থেকে অন্তত এক কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে অবস্থিত।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল বলেন, সকালে নাফ নদীর পাশের নিজস্ব চিংড়ি ঘেরে যান হানিফ। সেখানে নৌকা ও চাঁই ঠিক আছে কিনা দেখতে গিয়ে তিনি স্থলমাইনের ওপর পা দেন।
তিনি বলেন, “বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেন।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, এমএসএফ হাসপাতাল থেকে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিস্ফোরণের স্থান নিয়ে বিপরীত তথ্য
হানিফের সঙ্গে থাকা তার সহোদর ইমাম হোসেন বলেন, “আমাদের মাছের ঘেরটি বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে। বিস্ফোরণ হয়েছে ঘেরে যাওয়ার পথেই। মিয়ানমারের সীমান্ত সেখান থেকে অনেক দূরে।”
একই দাবি করেছেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের স্থানীয় যুবক সাইফুল ইসলাম শাকিল। তিনি বলেন, “নাফ নদী ও আশপাশের চিংড়ি-কাঁকড়ার ঘেরগুলো এখানকার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস। বিস্ফোরণের জায়গাটি বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরেই।”
শাকিল জানান, মিয়ানমারের রাখাইন অংশে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিতে কয়েকদিন ধরে কেউ ওই এলাকায় কাজ করতে যাননি। সোমবার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় কাজে গেলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
বিজিবির বক্তব্যে স্পষ্টতা নেই
ঘটনাস্থলটি বিজিবির ৬৪ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়- গত এক বছরে সীমান্তে কতজন স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন এবং মোট কতটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই পরিসংখ্যান দিতে অপারগতা জানান।
আজকের বিস্ফোরণটি সীমান্তের কোন দেশের অংশে ঘটেছে- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,“সেটি আহত ব্যক্তি বলতে পারবেন।”
পরে মাইন কারা পুঁতে রেখেছে জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে চাননি। তবে বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সীমান্তের কাছাকাছি কিছু এলাকায় মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করার কাজ চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত না করতে সচেতন করা হচ্ছে।”
সংঘর্ষের প্রভাব সীমান্তের এপারে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত কয়েকদিন ধরে সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। সেখানে কার্যত যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
এই সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও। জীবিকা নির্বাহের জন্য নাফ নদী ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা গুলি ও স্থলমাইনের ঝুঁকির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র বলেন, “নাফ নদীতে মাছের প্রজেক্টে কাজ করার সময় এক যুবকের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
স্থানীয়দের দাবি
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমান্তের কাছাকাছি স্থলমাইন থাকার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল- দ্রুত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে স্থলমাইন শনাক্ত করে অপসারণ এবং নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Share this article
Leave a Comment
Comments (0)
No comments yet. Be the first to share your thoughts!