মহেশখালী কুতুবদিয়াতে শুধু এমপি হবেন না— হবেন সরকারের মন্ত্রী: ডা. শফিকুর
মহেশখালী ও কুতুবদিয়াকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের চেয়েও ভালো অবস্থানে যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কক্সবাজার | বে ইনসাইট
মহেশখালীর লবণ শিল্পকে আধুনিক ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেনন, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া থেকে প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে শুধু এমপি হবেন না— তিনি হবেন সরকারের মন্ত্রী।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় কুলালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সোমবার অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনী জনসভা। দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারযোগে সমাবেশে যোগ দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মহেশখালী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিপ্লব ও সংগ্রামের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করেন। যারা এ লড়াইয়ে আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমি নিজের জন্য নয়—দেশ ও জাতির জন্য, যুব সমাজের প্রত্যাশা পূরণের জন্য, মা-বোনদের নিরাপত্তা এবং শিশুদের প্রতিভা বিকাশের জন্য আপনাদের কাছে এসেছি।”
বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদ মানবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ দেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করেই দাঁড়াবে।”

সার্বভৌমত্ব ও গণভোটের ডাক
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমিও কারও কাছে বন্ধক রাখা হবে না এবং কোনো শক্তির চোখরাঙানিকে পরোয়া করা হবে না।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি একটি ‘গণভোট’-এর আহ্বান জানান। তার ভাষায়,“এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি—স্বাধীনতা, আর ‘না’ মানে গোলামি।”
আগামী ১২ তারিখে পরিবার, প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের নিয়ে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গণজোয়ার তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
ফ্যাসিবাদ ও যুব সমাজ
গণভোটের বিপক্ষে যারা অবস্থান নেবে, জনগণ ধরে নেবে তারা আবারও পরিবারতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়—এমন মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
যুব সমাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যুবকরা বেকার ভাতা নয়, তারা চায় মর্যাদা ও ন্যায়বিচার।”তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, অপমানজনক ভাতা নয়—যুবকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সম্মানজনক কর্মসংস্থান।
সম্ভাবনাময় মহেশখালী কুতুবদিয়া
মহেশখালী ও কুতুবদিয়াকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের চেয়েও ভালো অবস্থানে যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশি জনগণের চরিত্রের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর চার দিন দেশে সরকার না থাকলেও কোথাও লুটতরাজ হয়নি। উন্নত অনেক দেশেও এমনটা দেখা যায় না।”
তার মতে, সমস্যা জনগণের নয়—সমস্যা ছিল নেতৃত্বে।
দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংস্কার
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে—যা বার্ষিক বাজেটের প্রায় চার গুণ।
তিনি বলেন, “এই টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। ইনসাফের ভিত্তিতে সারা দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।”
দীর্ঘদিন অবহেলিত মহেশখালীকে একটি ‘স্মার্ট ইকোনমিক জোন’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ হবে ‘নতুন বাংলাদেশের উদয়’।
তার দাবি, সঠিক নেতৃত্ব পেলে মাত্র পাঁচ বছরেই দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, “আমি বিভক্ত বাংলাদেশ চাই না—আমি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই।”
১১ দলীয় জোটের সম্মিলিত প্রতীক ‘দাড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন,“আমি কেবল কোনো দল বা পরিবারের বিজয় চাই না। আমি চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।”

ভোট চুরি রোধে সতর্কতা
বক্তব্যের শেষাংশে ভোট চুরির বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। বিজয়ের পর আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায়ের পরামর্শ দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
তিনি বলেন,“যে বিজয়ের পর কোনো দল, পরিবার বা গোষ্ঠী ক্ষমতায় গিয়ে জাতির ওপর তাণ্ডব চালায়—সে ধরনের বিজয় আমি চাই না। এমন বিজয়ের কোনো প্রয়োজন নেই।”
Share this article
Leave a Comment
Comments (0)
No comments yet. Be the first to share your thoughts!