Site Logo
English
ইলেকশন ইনসাইটকক্সবাজার

বাংলাদেশের ভর্তুকির সারে তৈরি হচ্ছে মিয়ানমারে বোমা!

বে ইনসাইট রিপোর্ট একদিকে সারের জন্য কৃষকের হাহাকার। ডিলারের দোকানে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সার। নির্ধারিত সময়ে ইউরিয়া না পেয়ে জমির ধান হলুদ হয়ে আসছে। অন্যদিকে সেই ভর্তুকির ইউরিয়া সারই বস্তায় বস্তায় চলে যাচ্ছে সীমান্তের দিকে। কখনও অটোরিকশায়, কখনও মাথায় …

7 min read

বে ইনসাইট রিপোর্ট

একদিকে সারের জন্য কৃষকের হাহাকার। ডিলারের দোকানে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সার। নির্ধারিত সময়ে ইউরিয়া না পেয়ে জমির ধান হলুদ হয়ে আসছে।

অন্যদিকে সেই ভর্তুকির ইউরিয়া সারই বস্তায় বস্তায় চলে যাচ্ছে সীমান্তের দিকে।

কখনও অটোরিকশায়, কখনও মাথায় করে, কখনও রোহিঙ্গা শ্রমিকের মাধ্যমে, ছোট ছোট চালানে সার পৌঁছাচ্ছে উখিয়ার পালংখালীর সীমান্তঘেঁষা এলাকায়। এরপর ছোট নাফ পেরিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারে।

আর এই সার মিয়ানমারে গিয়ে শুধু জমিতে ব্যবহার হচ্ছে না, এটি বিস্ফোরক বা বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন সীমান্তের জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক কনস্যুলেট প্রধান মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলামও বলেছেন, ইউরিয়া থেকে বিস্ফোরক তৈরি করা সম্ভব।

উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে বে ইনসাইট সরেজমিনে গিয়ে কৃষকের জমি, সারবাহী চালান আটকের নথি, সীমান্তের একাধিক তল্লাশি চৌকি এবং স্থানীয়দের বর্ণনা মিলিয়ে যে চিত্র পেয়েছে, তাতে প্রশ্ন উঠছে, কৃষকের জন্য ভর্তুকিতে দেওয়া সার কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে যাচ্ছে? কারা এই সার সংগ্রহ করছে? কোথায় মজুত হচ্ছে? কারা বহন করছে? আর ওপারে পৌঁছানোর পর এর গন্তব্যই বা কোথায়?

জমি হলুদ হয়ে যাচ্ছে

আঞ্জুমানপাড়া গ্রামের একেবারে ওপারেই মিয়ানমার।

দুই দেশের মাঝখানে ছোট নাফ। নদীর এপারে বাংলাদেশের কৃষকের জমি। ওপারে মিয়ানমারের ভূখণ্ড।

এই সীমান্তেই নিজের প্রায় সাত কানি জমি নিয়ে বিপাকে কৃষক মুক্তার আহমদ।

একবার সার প্রয়োগেই তাঁর প্রয়োজন প্রায় তিন বস্তা। কিন্তু তাঁর দাবি, এ পর্যন্ত এক কেজি সারও পাননি।

কথা বলতে বলতে নিজের জমির দিকে দেখিয়ে বলেন, জমির বড় অংশ হলুদ হয়ে যাচ্ছে।

“সার পাচ্ছেন না অথচ বিজিবি সার ধরতেছে”, কথোপকথনে তাঁর কথার সারকথা ছিল এমনই।

মুক্তার একা নন।

আঞ্জুমানপাড়া ও আশপাশের এলাকায় কথা বলা পাঁচ থেকে সাতজন কৃষকের অভিযোগেও উঠে এসেছে একই সংকটের কথা। নির্ধারিত সময়ে সার না পেলে ধানের গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, জমির কোথাও কোথাও হলুদাভ রং দেখা দিয়েছে।

একই এলাকার কৃষক মমতাজ মিয়া জানান, ডিলারের কাছে গিয়ে একদিন বলা হয় পরদিন সার দেওয়া হবে। পরদিন গেলে আবার বলা হয় সার নেই।

তার ভাষায়, তিনি যখন সার খুঁজছেন, তখন সীমান্তের পথে বস্তা বস্তা সার ধরা পড়ছে।

এই বৈপরীত্যই প্রশ্ন কৃষকের জমিতে দেওয়ার কথা যে সার, সেটিই কীভাবে সীমান্তে গিয়ে পৌঁছাচ্ছে?

১৫ টনের বেশি ইউরিয়া, ছয় মামলা

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে উখিয়া থানায় গত দুই মাসে হওয়া ছয়টি মামলা পর্যালোচনা করেছে বে ইনসাইট।

নথিগুলো বলছে, ২৭ জুন থেকে ২৭ আগস্ট, এই দুই মাসে বিভিন্ন সীমান্তপথে অভিযানে শুধু ইউরিয়া সারই জব্দ হয়েছে ১৫ হাজার ৫০ কেজি।

২৭ জুন আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত এলাকায় জব্দ করা হয় ৯০ বস্তা বা ৪ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া সার এবং ৮০ লিটার সয়াবিন তেল।

পরদিন কাঠালতলা খাল থেকে উদ্ধার হয় আরও ১৫ বস্তা বা ৭৫০ কেজি ইউরিয়া।

৩০ জুন ফারির বিল নারকেল বাগান এলাকায় ২০ বস্তা বা এক হাজার কেজি ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।

১৩ জুলাই পূর্ব ফারির বিল এলাকায় উদ্ধার হয় সবচেয়ে বড় চালানগুলোর একটি, ১১৫ বস্তা বা ৫ হাজার ৭৫০ কেজি ইউরিয়া।

১৮ জুলাই গয়ালমারা এলাকার একটি টিনশেড গোডাউন থেকে উদ্ধার হয় ৫৫ বস্তা বা ২ হাজার ৭৫০ কেজি টিএসপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার।

আর ২৭ আগস্ট আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে আবারও জব্দ হয় ছয় বস্তা বা ৩০০ কেজি ইউরিয়া ও ২০ লিটার সয়াবিন তেল।

ছয়টি মামলায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগ, সারগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।

এর বাইরেও গত জুনে কুতুপালং হয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ১০০ বস্তা ইউরিয়া সার একটি মিনি ট্রাক থেকে জব্দ করেছিল বিজিবি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা সারগুলো কুতুপালংয়ে মজুত রেখে পর্যায়ক্রমে সীমান্ত দিয়ে পাচারের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে বিজিবি জানিয়েছিল।

জুলাইয়ে আঞ্জুমানপাড়া স্লুইস গেট এলাকা থেকেও ১৩ বস্তা ইউরিয়া জব্দ এবং চারজনকে আটকের কথা জানিয়েছিল বিজিবি। আটক ব্যক্তিরা রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা ছিলেন বলে সে সময় জানানো হয়।

অর্থাৎ আঞ্জুমানপাড়া কেবল একটি বিচ্ছিন্ন পাচারপথ নয়, একাধিক অভিযানের তথ্য অন্তত সেটিই ইঙ্গিত করছে।

৫০০ মিটার পরপর পর্যবেক্ষন চৌকি, তবু সার যায় কীভাবে?

আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় নিরাপত্তা তল্লাশির একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রায় ৫০০ মিটার পরপর পর্যবেক্ষন চৌকি দেখা যায়।

তারপরও স্থানীয়দের অভিযোগ, ছোট ছোট চালানে সার সীমান্তের দিকে চলে যাচ্ছে।

আনজুমান পাড়া সীমান্তের এলাকায় গিয়ে পর্যবেক্ষন চৌকিতে পাচারের জন্য নেওয়া সার জব্দের চিত্র পেয়েছে বে ইনসাইট। সীমান্তের কয়েকশ মিটারের মধ্যে একাধিক চেকপোস্টে পাহারা থাকলেও রাতের আঁধার, জলপথ ও পাহারার সময়সূচির ফাঁক কাজে লাগিয়ে পাচারকারীরা সার সীমান্তের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে জানান দায়িত্বে থাকা এক বিজিবি সদস্য।

তার ভাষ্য, সাধারণত ছোট ছোট দলে সার বহন করা হয়, কখনও প্লাস্টিকের পাত্র বা বস্তায় করে তা নেওয়া হয়। বিজিবির সদস্যরা কোন দিকে অবস্থান করছেন, কখন টহল দিচ্ছেন, পাচারকারীরা সেদিকেও নজর রাখে। সুযোগ বুঝে কেউ ধরা পড়ে, আবার অনেকে অন্ধকার বা জলপথ ব্যবহার করে পালিয়ে যায়। এমনকি দিনের বেলাতেও অল্প পরিমাণ মালামাল নেওয়ার চেষ্টা হয়।

কৃষক মুক্তার জানান, একসঙ্গে বড় চালান না নিয়ে কেউ কেউ ১০–২০ কেজি করে সার নিয়ে যায়। এসব চালানের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের ব্যবহার করা হয়।

স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, সীমান্তের ওপারে আগে থেকেই লোক থাকে। এপারের বস্তা নদীর কাছে পৌঁছালে নৌকায় করে সেগুলো ওপারে নেওয়া হয়।

মিয়ানমারের নাইসাদং বাজারের দিকে এসব চালান যায়, এমন বর্ণনাও এসেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে।

রোহিঙ্গারা বাহক, স্থানীয়রা কি নিয়ন্ত্রক?

মামলার নথিতে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের নাম এসেছে। কাঠালতলা খালসংক্রান্ত মামলায় পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজনই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিবন্ধিত বাসিন্দা বলে নথিতে উল্লেখ আছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বাংলাদেশি পাচারকারীদের সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পর বাসিন্দারা বাহক হিসেবে কাজ করছিলেন।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ও কৃষকরাও বলছেন, এক বস্তা সার সীমান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রোহিঙ্গা শ্রমিকদের প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। আর নৌকার মাঝি এক বস্তার জন্য প্রায় ৩০০ টাকা পান।

পালংখালি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন বলেন, “এতে বোঝা যায়, বড় কোনো ট্রাক সরাসরি সীমান্তে না গিয়ে সারকে কয়েক ধাপে ভাগ করে ছোট ছোট চালানে নেওয়া হলে পাচারের ঝুঁকি কমানো যায় এবং একই সঙ্গে বাহকদের মাধ্যমে একটি শ্রমভিত্তিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়।”

ডিলারের সার, নাকি বাইরে থেকে আসে?

পালংখালীর সার ডিলার ইব্রাহিম আজাদের দাবি, তাঁর কাছ থেকে চোরাকারবারিরা সার নেওয়ার সুযোগ পায় না। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী কৃষকের তালিকা করে সার দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

একই কথা বলেছেন ডিলার সেলিমুল্লাহও।

উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশিস সরকারও বলেছেন, তাঁদের পর্যবেক্ষণে মিয়ানমারে পাচারের জন্য যে সার ধরা পড়ছে, তার বড় অংশ বাইরে থেকে উখিয়ায় আনা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

কারণ, উখিয়ার সরকারি বরাদ্দের পরিমাণের সঙ্গে বিভিন্ন অভিযানে ধরা পড়া বিপুল পরিমাণ সার মিলছে না।

সম্প্রতি ১৯ সেপ্টেম্বরও পালংখালীর পৃথক দুই জায়গা থেকে ৭৭ বস্তা ইউরিয়া জব্দের খবর এসেছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে সার কিনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে পাচার করে আসছে।

ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন বলছেন, উখিয়া টেকনাফ থেকে যাওয়ার পথে চেকপোস্টে তল্লাসী করা হলেও এখানে ঢুকার সময় তল্লাসী করা হয়না কোনো যানবাহনকে। ফলে বাইরে থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব সার ঢুকছে খুব আরামে।

এম গফুর উদ্দিন বলেন, উখিয়ার গয়ালমারা এলাকার সোনা মিয়া সার পাচারের সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে।

পাচারের ঘটনায় করা দুটি মামলার নথিতেও এসেছে এই নাম। ১৩ জুলাইয়ের একটি মামলায় এবং ১৮ জুলাইয়ের আরেক মামলায় তার নাম রয়েছে।

ভর্তুকির সার, ওপারে বোমা তৈরির অভিযোগ

সার পাচারের সঙ্গে বোমা তৈরির সম্পর্কের তথ্য দিয়েছেন উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে যাওয়া ইউরিয়া সার দিয়ে বোমা তৈরি করা হয়।

তাঁর ভাষ্য, ইউরিয়া-ভিত্তিক উপাদান বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গফুর উদ্দিনও বলেছেন, মিয়ানমারে ইউরিয়া সার দিয়ে বোমা তৈরির কথা তিনি শুনেছেন। এমনকি ব্যাটারিতে ব্যবহৃত এসিডও পাচার হয়, যা ধরাও পড়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে বিস্ফোরণে আহত হওয়ার ঘটনাগুলোর সঙ্গে এমন বিস্ফোরকের যোগসূত্র থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

এই দাবির বিষয়ে মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলামের বক্তব্য আরও গুরুত্বপূর্ণ।

মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক কনস্যুলেট প্রধান এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা এমদাদুল ইসলাম বলেছেন, ইউরিয়া থেকে বিস্ফোরক তৈরি করা সম্ভব।

তবে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া ইউরিয়া দিয়েই মিয়ানমারের কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বোমা তৈরি করে ব্যবহার করছে, এমন নির্দিষ্ট তথ্য তিনি জানেন না।

মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলামের ভাষ্য, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিস্ফোরক সংগ্রহের অন্য উৎসও রয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশ থেকে শুধু বিস্ফোরক তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ সার যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য ও চোরাচালানে সার, সিমেন্ট, রডসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্য যাওয়ার ঘটনা রয়েছে।

সার যাচ্ছে, ফিরছে কী?

সার পাচারের অর্থের উৎস ও গন্তব্য নিয়ে ভিন্ন একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, মিয়ানমারের বিভিন্ন পক্ষ বাংলাদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। সেই অস্ত্র বিক্রির অর্থ ব্যবহার করেই বাংলাদেশ থেকে সার কেনা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

অর্থাৎ, তাঁর ব্যাখ্যায় সীমান্তের এই বাণিজ্য শুধু সার পাচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে মিয়ানমার থেকে অস্ত্র আসা এবং বাংলাদেশ থেকে অর্থ বা পণ্য যাওয়ার একটি বড় অবৈধ অর্থনৈতিক চক্রও যুক্ত থাকতে পারে।

উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, বাংলাদেশ থেকে ভর্তুকির সার মিয়ানমারে যাওয়ার বিনিময়ে ইয়াবা দেশে আসে।

অর্থাৎ নগদ টাকা নয়, পণ্যবিনিময়ও হতে পারে এই পাচার ব্যবস্থার অংশ।

তিনি বলেন, সীমান্তে সার নিয়ে যাওয়া এবং মাদক নিয়ে ফিরে আসা, দুই ধরনের অপরাধকে যদি একই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে, তাহলে সার পাচারের অর্থনৈতিক লাভের সঙ্গে মাদক ব্যবসার লাভও যুক্ত হচ্ছে।

Share this article

Leave a Comment

Comments (0)

No comments yet. Be the first to share your thoughts!