নতুন শিক্ষাবর্ষ: কক্সবাজারে ইংরেজি মাধ্যমের নতুন বই আসেনি
কক্সবাজারের জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বে ইনসাইটকে বলেন, “সব শিক্ষার্থীর মধ্যে বই পৌঁছানো হয়েছে, তবে তা আংশিক।

কক্সবাজার | বে ইনসাইট
দেশজুড়ে বই উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও কক্সবাজারে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা এখনো অপেক্ষায়।প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ পাঠ্যবই বিতরণ এবং মাধ্যমিক স্তরে আংশিক সরবরাহ সম্ভব হলেও, ইংরেজি মাধ্যমের কোনো পাঠ্যবই এখনো জেলায় পৌঁছায়নি।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম দিন পর্যন্ত কক্সবাজারে মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ নতুন বই পৌঁছেছে। তবে এই পরিসংখ্যানে ইংরেজি মাধ্যমের বই অন্তর্ভুক্ত নয়।
কক্সবাজারের জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বে ইনসাইটকে বলেন, “সব শিক্ষার্থীর মধ্যে বই পৌঁছানো হয়েছে, তবে তা আংশিক। ইংরেজি মাধ্যমে এখনো কোনো বই আসেনি এ কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে পুরনো বই দিয়েই সাময়িকভাবে পাঠদান চালু রাখতে হচ্ছে।”
এতে করেই স্পষ্ট, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করেছে নতুন বই ছাড়াই।
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ (ইংরেজি মাধ্যম) হাসান মোহাম্মদ জানান, প্রাথমিকের বই এসেছে, তবে মাধ্যমিক স্তরের বই আসেনি।
তবে ৭ তারিখ থেকে তাদের ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে, তার আগেই বই পাওয়ার প্রত্যাশা করেন মি. হাসান।
তবে বে ইনসাইট শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছে, ইংরেজি মাধ্যমের বই সরবরাহে প্রতি বছরই কিছুটা বিলম্ব দেখা যায়।
এদিকে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রামমোহন সেন বলেন, “আমাদের স্কুলে প্রায় ৪০ শতাংশ বই এসেছে। বাকি বইগুলো পথে আছে। যারা প্রথম দিন এসেছিল, তারা সবাই কিছু না কিছু বই পেয়েছে।”
তবে এই ‘কিছু বই’-এর তালিকায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা নেই।
প্রাথমিক শতভাগ বই এসেছে
প্রাথমিক স্তরে বই বিতরণে সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেছেন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তারা। কক্সবাজারের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহীন মিয়া জানান, “প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ বই এসেছে এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।”
উখিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আশরাফুল আলম সিরাজী বলেন, “ উপজেলার ৭৮টি সরকারি ও ২৮টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ১ লাখ ২৬ হাজার পাঠ্যবই এসেছে, যা চাহিদার সমপরিমাণ। প্রথম দিন যারা বিদ্যালয়ে এসেছে, সবাই সব বই পেয়েছে।”
এই সফলতার বিপরীতে মাধ্যমিক ও ইংরেজি মাধ্যমের চিত্র স্পষ্টভাবে বৈপরীত্য তৈরি করছে।
উপজেলাগুলোতেও আংশিক বাস্তবতা
মহেশখালীর বারিয়াপাড়া মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক এম আব্দুল হান্নান জানান, “প্রাথমিকের সব বই এসেছে। কিন্তু মাধ্যমিকে শুধু নবম শ্রেণির বই এসেছে, অষ্টম শ্রেণির কিছু বই পাওয়া গেছে। বাকি বই এখনো আসেনি।”
যদিও জেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, বাকি বইগুলো আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে স্কুলগুলোতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
Share this article
Leave a Comment
Comments (1)
Noren Shams Chowdhury
March 1, 2026Good post