Site Logo
English
কক্সবাজার

চকরিয়ার ওসি- ইউএনওকে ‘খাটিয়ায় শোয়ানোর’ হুঁশিয়ারি উপজেলা বিএনপি সভাপতির

চকরিয়া থানা সবকিছু দেবে না, চকরিয়া থানা থেকে সবকিছু আমাদের আদায় করতে হবে। আমাদেরটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমাদেরটা কয়লামন্ত্রী না, পানিমন্ত্রী না। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছি।

3 min read
চকরিয়ার ওসি- ইউএনওকে ‘খাটিয়ায় শোয়ানোর’ হুঁশিয়ারি উপজেলা বিএনপি সভাপতির

কক্সবাজার | বে ইনসাইট

কক্সবাজারের চকরিয়ায় থানার ওসি, ইউএনওসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের বিরুদ্ধে।

রোববার (১০ মে) এক অনুষ্ঠানে দেওয়া তার বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বক্তব্যে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ না হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।

আমাদের হাতে আসা ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিওতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, চকরিয়া থানা সবকিছু দেবে না, চকরিয়া থানা থেকে সবকিছু আমাদের আদায় করতে হবে। আমাদেরটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমাদেরটা কয়লামন্ত্রী না, পানিমন্ত্রী না। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘ও ওসি তুই যদি আর হতা ন হনুস রাতিয়া গাট্টি গোল গরা পরিবো।’ অর্থাৎ ওসি, তুই যদি আমার কথা না শুনিস কাপড়চোপড় বেঁধে রাখতে হবে। তিনি বলেন, একইভাবে ইউএনও অফিসের কোনো কর্মকর্তা যদি আমাদের কথা না শোনে, তাহলে রাতে গাট্টি (কাপড়চোপড়) বেঁধে রাখার চেষ্টা করো।

এনামুল হক বলেন, আরও বড় বড় কর্মকর্তা যারা আছে, অফিসার-পিয়ন (কর্মকর্তা) আছে, আলটিমেটাম দেবেন, এই কাজটা করে দিবি। ১৫ দিন সময় দেবেন। এর ভেতর যদি না করিস, মসজিদ থেকে খাটিয়া আনবো, তোকে ওখানে শুয়াবো। তারপর হয় আমিরাবাদ, না হয় কক্সবাজার পাঠিয়ে দেব। তোর আর থাকতে হবে না। এই হচ্ছে আমাদের করণীয়।

এ সময় অবৈধভাবে মাছের ঘেরে না যাওয়ার জন্য সবাইকে নিষেধ করেন বিএনপির এ নেতা। তবে, বৈধভাবে সবাইকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

রোববার (১০ মে) রাতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আজিজনগর চেয়ারম্যান লেকস্থ একটি পিকনিক প্রোগ্রামে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

এ সময় তার পাশে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুদ্দীন ফরায়েজি, পৌরসভা বিএনপির সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, নুরুল আমিন কাউন্সিলর, বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন, আবুল হাসেমসহ চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

জানতে চাইলে এ বক্তব্যের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক।

তিনি বে ইনসাইটকে বলেন, “আমি বলেছি, হ্যাঁ এই কথাগুলো আমি বলেছি, কিন্তু আপনারা যে অর্থে নিয়েছেন, ওই অর্থে বলি নাই। এটা আমি এই অর্থে বলেছি যে আমাদের যদি বৈধ কোনো কথা না শোনা হয়, তাহলে এটা প্রযোজ্য হবে।”

তিনি দাবি করেন, বক্তব্যটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নয়, বরং একটি পিকনিকে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে ভিন্ন অর্থে প্রচার করা হচ্ছে। এখানে তো কোনো সাংবাদিক যায়নি।

প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এনাম বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে এই বক্তৃতা দিই নাই। একটা পিকনিকে আমরা এই কথাগুলো বলেছি।”

তিনি বলেন, বিষয়টি ছিল “বৈধতা-অবৈধতার প্রশ্নে” এবং “আমাদের ছেলেদের যদি অবৈধভাবে কেউ হয়রানি করে, তাহলে সে হয়তো চকরিয়াতে চাকরি করবে না”— এই প্রেক্ষাপটে আমি মন্তব্য করেছিলাম।

এনাম আরও বলেন, “আমি এ কথা তাকে (সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে) বলেছি। কে বা কারা এটাকে নিয়ে মিটিং করে এই বক্তৃতা করেছে— এটাই।”

আলাপকালে প্রতিবেদক উল্লেখ করেন, ঘটনাটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত। জবাবে এনাম বলেন, “রাইট, রাইট।”

“আমাদের এলাকা হোম মিনিস্টারের এলাকা। জনগণই তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছেন। তাই কোনো বৈধ কাজ যদি তারা করে না দেন, তাহলে ইউএনও-ওসির এমন পরিণতির কথা বলেছি।”

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চকরিয়ার নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন দেলোয়ার বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। এটা ব্যক্তির ব্যক্তিগত মতামত। উনি ভালো বলতে পারবেন কেনো বলেছেন।”

চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Share this article

Leave a Comment

Comments (0)

No comments yet. Be the first to share your thoughts!