Site Logo
English
বিশ্লেষণ

কক্সবাজারের আকাশে রহস্যময় আলোর নেপথ্যে কি?

এর আগে ২০২২ এবং ২০২৩ সালেও ভারতের একই ধরনের পরীক্ষার সময় বাংলাদেশ থেকে এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল।

2 min read
কক্সবাজারের আকাশে রহস্যময় আলোর নেপথ্যে কি?

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

শুক্রবার (৮ মে) কক্সবাজার জেলাসহ বিভিন্ন এলাকার আকাশে এক অদ্ভুত ও উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আকাশের বুক চিরে একটি আলোর পিণ্ড অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ওপরের দিকে উঠে যেতে দেখা যায়, যা কয়েক মিনিট স্থায়ী ছিল। এই রহস্যময় দৃশ্যটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানামুখী আলোচনা শুরু হলেও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক এভিয়েশন এর কিছু তথ্য বলছে, এটি ভারতের একটি শক্তিশালী ব্যালাস্টিক মিসাইল পরীক্ষার ফলাফল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

সম্ভাব্য কারণ: ৩৫৬০ কিমি দীর্ঘ ‘ডেঞ্জার জোন’

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নেভিগেশন সতর্কবার্তা বা NOTAM (Notice to Airmen) অনুযায়ী, ভারত গত ৬ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের একটি বিশাল এলাকায় বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করেছিল। ওড়িশার আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ভারত মহাসাগরের গভীরে প্রায় ৩৫৬০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই সতর্কতা জারি করা হয়। সাধারণত এত দীর্ঘ পাল্লার সতর্কতা তখনই জারি করা হয় যখন কোনো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক মিসাইল (ICBM) বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়।

কক্সবাজার থেকে দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাব্য কারণ

ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, ভারতের ওড়িশার আব্দুল কালাম দ্বীপ (হুইলার আইল্যান্ড) থেকে যখন কোনো মিসাইল ভারত মহাসাগরের দিকে ছোড়া হয়, তার গতিপথ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের খুব কাছাকাছি থাকে। আজ আকাশ পরিষ্কার থাকায় এবং মিসাইলটি বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে (Ionosphere) পৌঁছানোর সময় এর ইঞ্জিনের ‘প্লুম’ বা ধোঁয়ার কণাগুলো আলোয় প্রতিফলিত হওয়ায় এটি কক্সবাজার থেকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে আপাতত।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (OSINT) দাবি করছে, এটি ভারতের বহুল আলোচিত অগ্নি-৬ (Agni-VI) বা অগ্নি সিরিজের কোনো উন্নত সংস্করণের পরীক্ষা হতে পারে।

কেন এই আলো দেখা গেল?

ব্যালাস্টিক মিসাইল যখন বায়ুমণ্ডলের ঘন স্তর ভেদ করে মহাকাশের দিকে এগিয়ে যায়, তখন এর রকেট ইঞ্জিনের এক্সজস্ট গ্যাস এবং বায়ুর ঘর্ষণে এক ধরনের উজ্জ্বল আভা তৈরি হয়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে কয়েকশ কিলোমিটার দূর থেকেও এই দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যায়। এর আগে ২০২২ এবং ২০২৩ সালেও ভারতের একই ধরনের পরীক্ষার সময় বাংলাদেশ থেকে এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল।

অগ্নি-৬ এর সক্ষমতা:

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং এর পাল্লা হতে পারে ১০,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি। এতে ‘MIRV’ প্রযুক্তি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মাধ্যমে একটি মিসাইল দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব।

নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে কবে?

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (DRDO) বা দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাধারণত এ ধরনের কৌশলগত পরীক্ষার সফল সমাপ্তির পর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করে। বুধবার রাতের শেষভাগে ভারতের সরকারি সংবাদ সংস্থা PIB (Press Information Bureau) বা DRDO-এর অফিশিয়াল পোর্টাল থেকে এই পরীক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত এবং নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Share this article

Leave a Comment

Comments (0)

No comments yet. Be the first to share your thoughts!