Site Logo
English
কক্সবাজার

কক্সবাজারে বারে ছুরিকাঘাতের পর বাইরে নিয়ে প্রতিপক্ষের গণপিটুনিতে আরেকজনের মৃত্যু, মামলা হয়নি 

একপর্যায়ে তাঁদের একজন ফোন করে বাইরে থেকে একজনকে ডেকে আনেন। পুলিশের ভাষ্য, ওই যুবকের কাছে একটি ছুরি ছিল।

4 min read
কক্সবাজারে বারে ছুরিকাঘাতের পর বাইরে নিয়ে প্রতিপক্ষের গণপিটুনিতে আরেকজনের মৃত্যু, মামলা হয়নি 

। বে ইনসাইট রিপোর্ট ।

কক্সবাজার শহরের রেনেসাঁ হোটেলের মদের বারে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে প্রথমে ছুরিকাঘাতে এক যুবক আহত হন। পরে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক যুবককে বারের বাইরে নিয়ে প্রতিপক্ষের দেওয়া গণপিটুনিতে তিনিও মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ বলছে, ঘটনাটির সূত্রপাত হয়েছিল বারের একটি কক্ষে। সেখানে কয়েকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে এক পক্ষ ফোন করে বাইরে থেকে একজনকে ডেকে আনে। ওই যুবকের কাছে ছুরি ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের রেনেসাঁ হোটেলের মদের বারে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান। তবে নিহত এক যুবকের পক্ষ থেকে শুক্রবার নামাজের পর মামলা হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বারের ভেতরেই ছুরিকাঘাত

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, বারের ভেতরেই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। বার থেকে বের হওয়ার সময় এক যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর তিনি নিচে নেমে যান।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় বারের একটি কক্ষ থেকে। সেখানে আগে থেকেই পরিচিত কয়েকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে তাঁদের একজন ফোন করে বাইরে থেকে একজনকে ডেকে আনেন। পুলিশের ভাষ্য, ওই যুবকের কাছে একটি ছুরি ছিল।

অহিদুর রহমান বলেন, বাইরে থেকে ডেকে আনা ওই যুবকই পরে হামলার শিকার হন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি ভাঙা গ্লাস পাওয়া গেলেও সেটিকে ভাঙা বোতলের অংশ বলে মনে করছে না পুলিশ। তবে সেটি কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল, তা তদন্তের বিষয় বলে জানান তিনি।

কে ওই যুবক, এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ

বাইরে থেকে ফোন করে ডেকে আনা যুবকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বারের সিসিটিভি ফুটেজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। অধিকাংশই স্থানীয় হওয়ায় অন্যদের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ ধারণা পেলেও ওই যুবকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হয়নি।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের স্বার্থে ওই যুবকের নাম এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ছুরিকাঘাতের পর পাল্টা হামলা

পুলিশের বর্ণনায়, ঘটনার দ্বিতীয় পর্বটি ঘটে বারের বাইরে।

ছুরিকাঘাতের পর সংশ্লিষ্টরা সেখান থেকে বেরিয়ে গেলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। তখন নিহত প্রথম যুবকের পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে হামলা চালায় বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, ওই সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

পুলিশ পরে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে। তাঁকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে চট্টগ্রামে পাঠানোর জন্য রেফার করা হয়।

তবে চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে ওই যুবকের মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই যুবককে পরে স্থানীয় লোকজন ধরে মারধর করে।

দুই মৃত্যুর নেপথ্যে কী?

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই পক্ষই স্থানীয় এবং তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, বারের ভেতরে কথা-কাটাকাটির পর এক পক্ষ বাইরে থেকে লোক ডেকে আনে। এরপর সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।

তবে কী নিয়ে প্রথমে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় ও ভূমিকা সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা হচ্ছে।

মামলা হয়নি এখনো

ঘটনার পর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ নিয়ে স্বজনরা ব্যস্ত থাকায় মামলা করতে কিছুটা সময় লাগছে। প্রথম নিহত যুবকের পক্ষ থেকে নামাজের পর মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে পাল্টা হামলায় নিহত যুবকের মরদেহ চট্টগ্রাম থেকে আনা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফলে তাঁর পক্ষ থেকে মামলা হতে আরও সময় লাগতে পারে।

বারের নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়েও প্রশ্ন

ঘটনার পর রেনেসাঁ হোটেলের মদের বারে কারা প্রবেশ করেছিলেন এবং তাঁদের মদ্যপানের বৈধ অনুমোদন ছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ঘটনার সময় বারে এমন ব্যক্তিদের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে, যাঁদের অনুমোদন বা পারমিট ছিল না।

বারে কর্মরত কর্মকর্তা অবশ্য দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী পারমিট পরীক্ষা করা হয়। বৃহস্পতিবার যাঁদের পারমিট ছিল না, তাঁদের বিল দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা।

এখন সেই ব্যবস্থার মধ্যেই কীভাবে বাইরে থেকে একজন ছুরি নিয়ে বারের ভেতরে ঢুকলেন, এবং সংঘর্ষের পর কীভাবে তাঁকে বারের বাইরে নিয়ে গিয়ে গণপিটুনি দেওয়া হলো, এসব প্রশ্নও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কারা বারের ভেতরে ছিলেন, কে কাকে ফোন করে ডেকেছিলেন, ছুরিকাঘাত কে করেছিলেন এবং পরবর্তীতে কারা ওই যুবককে ধরে মারধর করেছেন, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Share this article

Leave a Comment

Comments (0)

No comments yet. Be the first to share your thoughts!