Site Logo
English
কক্সবাজার

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্প বিস্ফোরণ: লোড-আনলোড ত্রুটি প্রাথমিক কারণ, অনুমোদনহীন নির্মাণ; তদন্ত কমিটি গঠন

“গ্যাস পাম্পটির কোনো ফায়ার সেফটি প্লান বা ফায়ার সার্টিফিকেট নেই, যা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে নেওয়ার কথা।”

3 min read
কক্সবাজারে গ্যাস পাম্প বিস্ফোরণ: লোড-আনলোড ত্রুটি প্রাথমিক কারণ, অনুমোদনহীন নির্মাণ; তদন্ত কমিটি গঠন

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

কক্সবাজারের কলাতলীতে গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ‘লোড-আনলোড’ ত্রুটিকে কারণ হিসেবে দেখছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। একই সঙ্গে পাম্পটির ফায়ার সেফটি প্লান ও পরিবেশগত অনুমোদন না থাকার বিষয়ও সামনে এসেছে।
বুধবার রাত ১০টার দিকে কলাতলীর প্রবেশমুখে ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন’ নামের গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ছয়জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালর বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রাথমিক কারণ: লোড-আনলোডে ত্রুটি
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, এখনো পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হয়নি।
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে গ্যাস লোড-আনলোডের ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি জানা যাবে তদন্ত প্রতিবেদনের পর।”
তিনি আরও জানান, গ্যাস পাম্পটির কোনো ফায়ার সেফটি প্লান বা ফায়ার সার্টিফিকেট নেই, যা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে নেওয়ার কথা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মুসাইব ইবনে রহমান বলেন, “কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের সিএনজি স্টেশন বা পাম্প স্টেশন করতে গেলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ছাড়পত্র নিতে হয়। এই প্রতিষ্ঠান তাও মানেনি। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনার পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।
কমিটিতে রয়েছেন—ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের পরিদর্শক, জেলা পুলিশের প্রতিনিধি এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বলেন, “আমরা কাজ শুরু করেছি। পাম্পের মালিকের সাথেও কথা হয়েছে। তাকে সমস্ত কাগজ দেখাতে বলা হয়েছে।”

আহতদের অবস্থা
শাহিদুল আলম জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিনি বলেন, “সেখানকার চিকিৎসকের সাথে কথা হয়েছে আমাদের। তাদের শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জেনেছি। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।”

একই এলাকায় একাধিক ফিলিং স্টেশন
কক্সবাজার শহরের প্রবেশমুখ কলাতলি থেকে লিংকরোড পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় চারটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে।
এ বিষয়ে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এতগুলো স্টেশন থাকা যায় কিনা জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, “আমরা খতিয়ে দেখবো।”

মালিকের দাবি
গ্যাস পাম্পটির স্বত্বাধিকারী এন আলম বলেন, “লাইসেন্স ছাড়া এরকম প্রতিষ্ঠান করার কোনো সুযোগ নাই আপনারা জানেন। ওরা তালিকা দেখুক আমাদের নাম আছে কিনা! আর এটা ঘনবসতি এলাকা কিভাবে বলবেন, পেছনে হয়তো দুইটা বাড়ি আছে। আর আশপাশে কী কোনো বাড়ি আছে?”
তিনি আরও বলেন, “আহত যারা আছে তাদের পাশে আমরা আছি। আমাদের দুইজন কর্মচারী আহতদের ওখানে সার্বক্ষণিক আছে। ওদের ঢাকাও যদি নেয়া লাগে আমরা নেবো। দুর্যোগ সচিব ও এডিমের সাথে আমার কথা হয়েছে। ব্যবসা থাকলে দুর্ঘটনা হবে সেটা মাথায় নিয়েই ব্যবসা করতে হবে। আহতরা যতোদিন সুস্থ হবেনা আমরা পাশে আছি।”

ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর ও স্থানীয়দের অভিযোগ
গ্যাস পাম্পের সঙ্গে লাগোয়া বসতঘরের মালিক শাহাদাত হোসেন জানান, তাদের ঘরবাড়ির সবকিছু পুড়ে গেছে।
তিনি বলেন, “আমরা প্রায় ৩০ বছর রেজিস্ট্রি জায়গায় আছি। এই গ্যাস পাম্পটি অনুমোদন ছাড়া জবরদখল করে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে এটি তড়িঘড়ি করে গত পরশুদিন উদ্বোধন করা হয়েছে। আমি সব হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছি। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমরা চাইনা এই ঘনবসতির মধ্যে এই গ্যাস পাম্পটি থাকুক।”

গাড়ি পুড়ে ক্ষতি
পাম্পটির ৫০ গজ দূরে একটি গ্যারেজে থাকা প্রায় ২০টি গাড়িও পুড়ে গেছে।
গ্যারেজে থাকা চালক মো. ফরিদুল আলম বলেন, “গ্যাসের সাথে হঠাৎ করে আগুন এসে মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে যায় সব। গ্যাসের গন্ধে কেউ চোখ-মুখ খুলতে পারছিলোনা। ২০টি গাড়ির ক্ষতি হয়েছে। অনেক গাড়ি আগুনসহ চালিয়ে বের করা হয়েছে।”

Share this article

Leave a Comment

Comments (0)

No comments yet. Be the first to share your thoughts!