কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু: আদিনাথ মন্দিরের উত্তরাংশ থেকে চৌফলদণ্ডি হওয়ার সম্ভাবনা
“এখন অনেককে এক থেকে দেড় ঘণ্টা ঘুরে যেতে হয়। সেতুটি উত্তর দিকে হলে এই সময় বাঁচবে”

বে ইনসাইট ডেস্ক
কক্সবাজারের সঙ্গে মহেশখালীর সরাসরি সেতু নির্মাণে সম্ভাব্য রুট নিয়ে চলছে আলোচনা। বিশেষ করে মহেশখালীর উত্তরাংশকে যুক্ত করার দাবি এবং এয়ারপোর্ট ও নৌ চলাচলের সীমাবদ্ধতা, দুই দিকেই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী সেতুর অবস্থান নির্ধারণে উত্তর প্রান্তকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন।
সভা শেষে বে ইনসাইটকে তিনি বলেন, সেতুটি যদি এমনভাবে করা যায় যাতে আদিনাথ মন্দিরের উত্তর বা শাপলাপুরের শেষ প্রান্ত থেকে সংযোগ স্থাপন হয়, তাহলে মহেশখালীর মানুষ সরাসরি কক্সবাজারে যেতে পারবে।
“এখন অনেককে এক থেকে দেড় ঘণ্টা ঘুরে যেতে হয়। সেতুটি উত্তর দিকে হলে এই সময় বাঁচবে,” বলেন তিনি।
তিনি বলেন, সময়, ব্যয় ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় সেতুর দৈর্ঘ্য কম রাখা এবং নাব্যতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনটি রুট, কিন্তু চূড়ান্ত কিছু নয়
সভায় সেতু নির্মাণের জন্য ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’, এই তিনটি সম্ভাব্য রুট নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে আদিনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকা, শাপলাপুরের দিক এবং ক্রস স্কুল-সংলগ্ন একটি রুট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে কোনো রুটই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং জনমত ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।
এয়ারপোর্ট ও নৌ চলাচল বড় বাধা
আলোচনায় উঠে এসেছে, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কারণে সি রুটে সেতু নির্মাণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে এই রুটে সেতু করতে হলে সেটি অনেক উঁচু করতে হবে, যাতে নৌবাহিনীর জাহাজসহ বড় নৌযান চলাচল করতে পারে। এতে বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, “নেভি, স্টিমার, সব ধরনের নৌযান চলাচল মাথায় রেখে সেতুর উচ্চতা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে এয়ারপোর্টের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।”
সেতুর সম্ভাবনা কোনদিকে বেশি?
আলোচনায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আদিনাথ মন্দিরের আশপাশ হয়ে চৌফলদণ্ডি সেতুর কাছাকাছি এলাকায়, যেটি ‘বি’ রুট হিসেবে প্রস্তাবিত, সেখানে সেতু নির্মাণ তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত হতে পারে।
যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ এই রুটকে তুলনামূলকভাবে কম জটিল বলে মনে করছেন।
কারন ‘এ’ রুটে যেটি শাপলাপুর হয়ে পোকখালী করার প্রস্তাবনা আসছে ,সেটা হলে কক্সবাজার শহরে আসতে দীর্ঘ সময় ও ব্যয় বাড়বে। আর ‘সি’ রুটের উচ্চতা নিয়ে আপত্তি থাকতে পারে সিভিল এভিয়েশনের।
সরকারের আশ্বাস, দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
সভায় প্রধান অতিথি সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকল্পটি এগোয়নি। তবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
“মহেশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই সেতু। দ্রুত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে,” বলেন তিনি।
প্রাথমিক পর্যায়ে জনমত সংগ্রহ
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই বৈঠকে মূলত জনমত ও স্থানীয় চাহিদা বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন রুট নিয়ে মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তী সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কাজে লাগবে।
ফলে কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু এখনো পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপেই রয়েছে, চূড়ান্ত রুট নির্ধারণে সামনে আরও আলোচনা ও কারিগরি বিশ্লেষণ প্রয়োজন হবে।
Share this article
Leave a Comment
Comments (0)
No comments yet. Be the first to share your thoughts!