রোহিঙ্গারা ঘরে ফিরুক- প্রত্যাশা এরদোয়ান পুত্র বিলাল ও বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসুত ওজিলের
বিলাল এরদোয়ান বলেন, “আমরা চাই মানুষ তাদের নিজ ঘরে ফিরতে পারুক, যা তাদের মৌলিক মানবিক অধিকার।

প্রতিবেদক, বে ইনসাইট
কক্সবাজার — তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর ছেলে নেজমেত্তিন বিলাল এরদোয়ান এবং ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী জার্মান ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল বৃহস্পতিবার এক দিনের সরকারি সফরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন।
সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে তারা ঢাকাগামী একটি বিশেষ ফ্লাইটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাদের সঙ্গে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ছিল। বিমানবন্দরে জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান ও পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান তাদের স্বাগত জানান।
পরে প্রতিনিধিদলটি কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত তুর্কি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে।
প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন প্রতিনিধি দলে তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার সভাপতি আব্দুল্লাহ এরেন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন। এছাড়া বিভিন্ন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরাও সফরে অংশ নেন।

কক্সবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিলাল এরদোয়ান বলেন, “প্রত্যাবাসন অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই মানুষ তাদের নিজ ঘরে ফিরতে পারুক, যা তাদের মৌলিক মানবিক অধিকার। আন্তর্জাতিক আইনও শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করে।”
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিক্ষা সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মৌলিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে টিকা বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে, আর তুর্কি দিয়ানেত ফাউন্ডেশন বিশেষভাবে মেয়েদের শিক্ষায় সহায়তা দিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, “আমি আশা করি এ প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং আজকের এই সফর আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, সহায়তা সংস্থা ও দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, যাতে তারা রোহিঙ্গাদের শিক্ষায় আরও জোরালোভাবে সহায়তা করে।”

রমজান উপলক্ষে মেসুত ওজিলের সফর প্রসঙ্গে বিলাল এরদোয়ান বলেন, ওজিল তার রমজানের প্রথম ইফতার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে করতে বেছে নিয়েছেন, যা মুসলিম বিশ্বে একটি শক্ত বার্তা দেবে। “রমজান আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়—সহমর্মিতা, আত্মসমালোচনা ও স্মরণের সময়। আমি আশা করি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রথম ইফতার বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়কে তাদের স্মরণ ও সহায়তায় উদ্বুদ্ধ করবে,” বলেন তিনি।

তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সরকার ও জনগণের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
পরে প্রতিনিধিদলটি উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-৯-এ টিকা পরিচালিত তুর্কি ফিল্ড হাসপাতাল ও শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শন করে।

এরপর ওজিল রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেন। ম্যাচ শেষে বিলাল এরদোয়ান, ওজিল ও প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতারে যোগ দেন।
সন্ধ্যায় তারা ঢাকায় ফেরেন।
Share this article
Leave a Comment
Comments (0)
No comments yet. Be the first to share your thoughts!