Site Logo
English
ইনসাইট স্টোরিকক্সবাজার

উখিয়ায় গৃহবধূ ‘ধর্ষণ ও হত্যা’: মেঝের মাটি খোঁড়া ছিলো, জমি বিরোধ চাচাতো-জেঠাতো ভাইদের সাথে

প্রবাসী স্বামী আব্দুর শুক্কুর হোয়াটসঅ্যাপে জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। পরদিন সকালে আত্মীয়ের মাধ্যমে তিনি হত্যার খবর পান।

2 min read
উখিয়ায় গৃহবধূ ‘ধর্ষণ ও হত্যা’: মেঝের মাটি খোঁড়া ছিলো, জমি বিরোধ চাচাতো-জেঠাতো ভাইদের সাথে

বে ইনসাইট | কক্সবাজার

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় গৃহবধূ লায়লা বিবিকে হত্যার ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষার কথা বলছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব মরিচ্যা মধুঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত লায়লা বিবি মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুর শুক্কুরের স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী ছিলেন এবং সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতেন।

উখিয়া থানার ওসি নুর আহমদ বলেন, “তাকে হত্যা করা হয়েছে, এটি নিশ্চিত। তবে ধর্ষণের বিষয়টি এখনই বলা যাচ্ছে না। ফরেনসিক প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

সুরতহাল প্রতিবেদনে তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কপালে গুরুতর জখম, হাতে আঘাত এবং ধস্তাধস্তির আলামত রয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার মধ্যরাতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশীদের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডটির সঙ্গে ওই বিরোধের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিহতের ভাসুর আব্দুল আলম বলেন, ভোরে সেহরি প্রস্তুতের সময় দুই থেকে তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে লায়লা বিবিকে মারধর করে হত্যা করে।

“পরে তার সন্তানরা দেখতে পেয়ে আমাদের খবর দেয়। আমরা এসে পুলিশকে জানাই,” বলেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, উদ্ধারের সময় লায়লা বিবির শরীরে কোনো কাপড় ছিল না এবং হাত-পা অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো অবস্থায় ছিল।

নিহতের শ্বশুর জাফর আলম বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এর আগেও বাড়িতে হামলা হয়েছিল। এবার আমার ছেলের বউকে মেরে ফেলেছে।”

শাশুড়ি মনোয়ারা বেগমের দাবি, খাটের নিচে মেঝে খুঁড়ে রাখা ছিল, যা দেখে তাদের ধারণা, লাশ গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

প্রবাসী স্বামী আব্দুর শুক্কুর হোয়াটসঅ্যাপে জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। পরদিন সকালে আত্মীয়ের মাধ্যমে তিনি হত্যার খবর পান।

তিনি বলেন, “তিন বছর ধরে আমি মালয়েশিয়ায় আছি। জমি নিয়ে চাচাতো ও জেঠাতো ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চলছে। তাদের সন্দেহ করছি, তবে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্তের দাবি জানাই।”

হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, “পুলিশ তদন্ত করছে। পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে।”

বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ওসি নুর আহমদ জানান, মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলা হলেই জানা যাবে আসামির সংখ্যা ও পরিচয়।

Share this article

Leave a Comment

Comments (0)

No comments yet. Be the first to share your thoughts!