Site Logo
English
ইলেকশন ইনসাইট

আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনের নিরপেক্ষতা: নূর আহমদ আনোয়ারী

“যেহেতু এটি একটি সীমান্ত ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা, তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি; তা না হলে সন্ত্রাসীরা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে।”

4 min read
আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনের নিরপেক্ষতা: নূর আহমদ আনোয়ারী
  • বে ইনসাইটের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে কক্সবাজারের সংসদীয় আসন গুলোর প্রার্থীদের। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নূর আহমদ আনোয়ারীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। পাঠকদের জন্য সেই আলাপের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো উপস্থাপন করা হলো:


বে ইনসাইট: আপনাকে স্বাগতম। আপনি দীর্ঘ সময় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথম। আপনার মূল প্রতিপক্ষ চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির হেভিওয়েট নেতা শাহজাহান চৌধুরী। এই লড়াইয়ে আপনি জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী?

নূর আহমদ আনোয়ারী: দেখুন, আমি ২০০৩ সাল থেকে একটানা হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছি এবং সংসদ নির্বাচনে লড়ার জন্য এবার পদত্যাগ করেছি। আমি ৩৫ বছর একটি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং ছাত্রজীবন থেকে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ৫ই আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী এখন আর ছোট কোনো দল নয়; আমরা মাঠ পর্যায়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছি। মানুষ এখন নতুনভাবে চিন্তা করছে এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে। প্রচারণায় সাধারণ মানুষের যে গণজোয়ার ও উচ্ছ্বাস আমি দেখছি, তাতে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে ১২ তারিখের নির্বাচনে মানুষ ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকেই আস্থা রাখবে।

বে ইনসাইট: আপনার জয়ের পথে প্রধান চ্যালেঞ্জ বা বাধাগুলো কী কী বলে মনে করছেন?

নূর আহমদ আনোয়ারী: প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনের নিরপেক্ষতা। যেহেতু এটি একটি সীমান্ত ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা, তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি; তা না হলে সন্ত্রাসীরা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। এছাড়া এলাকায় প্রচুর কালো টাকার মালিক রয়েছেন যারা নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করতে পারেন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তাদের কর্মী-সমর্থকদের ভূমিকাও একটি বিবেচ্য বিষয় । তবে আমার বিশ্বাস, সাধারণ মানুষ নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন ।

বে ইনসাইট: শাহজাহান চৌধুরী অভিযোগ করেছেন যে আপনারা ভোট কেনার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

নূর আহমদ আনোয়ারী: এটি আসলে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র মতো একটি চেষ্টা। আমি একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছি এবং আমার সম্পদ বিবরণীতে সব পরিষ্কার উল্লেখ আছে; ভোট কেনার মতো কোনো টাকা বা কালো টাকা আমার নেই। বরং শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষেই আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী অনেকে কাজ করছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম, খাইরুল আলম চৌধুরী এবং প্যানেল মেয়র এনাম কমিশনারের মতো ব্যক্তিরা উনার পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে আছেন । আমাদের সাথে কেবল মেহনতি ও সাধারণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী আছে যারা কোনো প্রলোভনে নয়, বরং আস্থার কারণে আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন।

বে ইনসাইট: সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির সাথে আপনার সুসম্পর্কের কথা শোনা যায়। এটি নির্বাচনে কতটুকু প্রভাব ফেলবে?

নূর আহমদ আনোয়ারী: দেখুন, তিনি দীর্ঘদিনের এমপি ছিলেন আর আমি দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান ছিলাম। প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজের প্রয়োজনে সরকারি সভাগুলোতে আমাদের একসাথে বসতে হয়েছে, এটি ছিল নিছকই রাজনৈতিক সৌজন্যতা। এর বাইরে উনার সাথে আমার বিশেষ কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। মজার বিষয় হলো, শাহজাহান চৌধুরীও যখন এমপি ছিলেন, বদির সাথে উনার সুসম্পর্ক আমি দেখেছি। কিছু মানুষ কেবল আমাকে হেয় করার জন্য এই প্রসঙ্গটি তুলে ধরছে।

বে ইনসাইট: আব্দুর রহমান বদির যে ভোট ব্যাংক রয়েছে, সেটি কোন দিকে যাবে বলে আপনি মনে করেন?

নূর আহমদ আনোয়ারী: মানুষ আগে হয়তো বিকল্প না পেয়ে বিভিন্ন দিকে ভোট দিয়েছে, কিন্তু এখন তারা পরিবর্তনের পক্ষে। আমি মানুষের মধ্যে আমার প্রতি যে আকর্ষণ এবং সমর্থন দিন দিন বাড়তে দেখছি, তাতে আমি আশাবাদী যে এই জনস্রোত শেষ পর্যন্ত আমার পক্ষেই আসবে।

বে ইনসাইট: সংখ্যালঘু বা মাইনরিটি ভোটাররা আপনাকে কেন ভোট দেবে?

নূর আহমদ আনোয়ারী: সংখ্যালঘুরা আমাদের কাছে নিজেদের সবচেয়ে নিরাপদ মনে করে। জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে আমরা মাইনরিটি-মেজরিটির দেয়াল ভেঙে দিতে চাই এবং রাষ্ট্রের সকল নাগরিককে সমান অধিকার দিতে চাই । ইসলামে অমুসলিমদের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে । তারা এখন বুঝতে পেরেছে যে সংকীর্ণ রাজনীতির চেয়ে ইসলামের আদর্শের কাছেই তারা বেশি নিরাপদ এবং আমাদের প্রতি তাদের আস্থা দিন দিন বাড়ছে ।

বে ইনসাইট: বিএনপি ঘরানার নেতা ও প্রভাবশালী গফুর চেয়ারম্যান আপনার সমর্থনে মাঠে নেমেছেন। এটি আপনার জন্য কতটুকু ইতিবাচক?

নূর আহমদ আনোয়ারী: গফুর চেয়ারম্যান নিজেও একজন অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে তার নিজের দল বা নেতৃবৃন্দ তার প্রতি অবিচার করেছেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন । অন্যদিকে সাধারণ মানুষ এখন জামায়াতে ইসলামীর দিকে ঝুঁকছে । জনগণের এই পালস বুঝতে পেরেই তিনি দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন । একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধির এই সমর্থন অবশ্যই নির্বাচনী মাঠে আমাদের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে ।

বে ইনসাইট: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।

নূর আহমদ আনোয়ারী: আপনাকেও ধন্যবাদ।

Share this article

Leave a Comment

Comments (0)

No comments yet. Be the first to share your thoughts!